• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পূবাইলে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ৩ যুবক গ্রেপ্তার খুচরা বাজারে ২২০০-২৩০০ টাকা এলপিজি, চাপে সাধারণ ক্রেতা টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদককারবারী গ্রেফতার গাজীপুরে দুটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বাসনে গড়ে উঠেছে একাধিক চোরাই তেলের দোকান, উঠছে নানা প্রশ্ন রাজধানীতে অপরাধ দমনে কঠোর অভিযানের প্রস্তুতি, আলোচনায় ‘ক্লিন হার্ট’ শ্রীপুরে অপহৃত তরুণ উদ্ধার, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৩ সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুর মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহ: দুই ফিলিং স্টেশনকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে কোনাবাড়ীতে এক যুবক গ্রেপ্তার

ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

ডেক্স রিপোর্ট / ১৩৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

ডেক্স রিপোর্ট

 

দেশের কৃষিখাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের বৈষম্য কমানো এবং কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচ কার্যক্রম চালু রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে গ্রামাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাজধানীতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের জন্য ডিজেল ও বিদ্যুতের সরবরাহ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সাময়িকভাবে শহরাঞ্চলে কিছুটা ভোগান্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন করা গেছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা পূরণ করতে বাধ্য হয়ে দেশজুড়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, কাগজে-কলমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল নেই। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে গ্যাসের ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ থাকলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় এই অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমানে একটি আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব কেন্দ্র পুনরায় উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এক সপ্তাহের মধ্যে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতের অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারের যেকোনো বক্তব্যে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন।

রাজধানীতে পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের কারণে নাগরিকদের যে ভোগান্তি তৈরি হবে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা এবং কৃষিখাতকে রক্ষা করার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


More News Of This Category
bdit.com.bd