
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলের পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গাজীপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির মোড়ল।
নাছির মোড়ল অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে থানা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন তিনি।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে নাছির মোড়ল বলেন, “আমার নেতাকর্মীদের ডিস্টার্ব করে পুলিশ ভাইয়েরা ভুল করেছেন। আমি এক কথার মানুষ। আগে বলেছিলাম নেতাকর্মীদের হয়রানি করলে থানার সামনে মিছিল করব, করেছি। এবারও বলছি—এই মিছিলের পর যদি আমার নেতাকর্মীদের ডিস্টার্ব করা হয়, তাহলে পরবর্তী কর্মসূচি হবে থানা ঘেরাও।”
তিনি আরও বলেন, “প্রস্তুত থাকেন, পরবর্তী মিছিলে থানা ঘেরাও হবেই। নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধ করুন। অন্যথায় জীবন দিয়ে হলেও আমি আমার কথা রাখব। থানার সামনে মিছিল করা কোনো অপরাধ নয়। আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সম্প্রতি গাজীপুরে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং এটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মিছিলের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় বলে জানা গেছে।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাছির মোড়লের এই বক্তব্যের পর গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য পরবর্তী কর্মসূচি এবং প্রশাসনের অবস্থানের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।