
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চকলেট দেওয়ার কথা বলে চার বছরের এক শিশুকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে আনসার সদস্যদের প্রায় দুই ঘণ্টার তৎপরতায় হাসপাতালের অষ্টম তলার একটি বাথরুম থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটি তার নানির সঙ্গে সার্জারি ওয়ার্ডে অবস্থান করছিল। এ সময় লিটন মিয়া নামে এক ব্যক্তি চকলেট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে তার মা জবারানী দাস বিষয়টি হাসপাতালের তৃতীয় তলায় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পর বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে অনুসন্ধান শুরু করেন। পিসি মো. গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে এপিসি মো. উজ্জল হোসেন, আনসার সদস্য মো. সুজন মিয়া ও মো. শাকিল হক হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান।
প্রায় দুই ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতালের অষ্টম তলার একটি বাথরুম থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় লিটন মিয়াকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পরে শিশুটিকে তার মা জবারানী দাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আনসার সদস্যদের দাবি, তল্লাশির সময় আটক লিটন মিয়ার কাছ থেকে কিছু গাঁজা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তবে এসব সামগ্রীর বিষয়ে আইনগত তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
পরে শিশুটির জ্ঞান ফিরলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জবারানী দাস ও আটক লিটন মিয়াকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারে সহযোগিতা করায় তার পরিবার আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।