
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন পালেরপাড়া এলাকায় গৃহবধূ মিম আক্তার (২৮) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আলম হোসেনকে (২৯) ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালী থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই বাসন থানার পালেরপাড়া এলাকায় আরজু মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূ মিম আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শহীদুল ইসলাম (রানা) বাদী হয়ে স্বামী মো. আলম হোসেন ও জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে বাসন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বাসন থানার মামলা নং-৫১ (তারিখ: ২৮ জুলাই ২০২৬), পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
প্রাথমিকভাবে বাসন থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ৩০ জুলাই পিবিআই গাজীপুর জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে। পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রাফিকুল ইসলাম জামানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তের শুরু থেকেই পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ও তদন্ত টিম সমন্বিতভাবে ছায়া তদন্ত পরিচালনা করে।
পিবিআই জানায়, অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বরিশালের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ, এজাহার এবং এ পর্যন্ত সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পিবিআই জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দীর্ঘদিনের দাম্পত্য বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আলম হোসেন মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। ঘটনার আগে স্ত্রীর সঞ্চিত অর্থ জুয়ায় হারিয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে সেই বিরোধ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পৃথক একটি তদন্ত দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। পিবিআই প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ধারাবাহিক ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি এ অভিযানে সহযোগিতার জন্য পিবিআই বরিশাল জেলা, পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স, নৌ পুলিশ ঢাকা ও বরিশাল এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বর্তমানে মামলার তদন্ত তদারকি করছেন পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার এবং তদন্ত পরিচালনা করছেন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রাফিকুল ইসলাম জামান।