
মজুরি বৃদ্ধির সুপারিশে মালিক-শ্রমিকের সম্মতি, শিল্পাঞ্চলে জোরদার নিরাপত্তা
টানা কয়েক দিনের উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর অবশেষে কাজে ফিরেছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পোশাক শ্রমিকরা। সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ সম্মতি জানানোর পর রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার সকাল থেকেই নির্ধারিত সময়ে কোনাবাড়ী, শফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, বাসন সড়ক, টঙ্গী, সালনা, ভবানীপুর ও বাংলাবাজারসহ শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকরা দলে দলে কাজে যোগ দেন। আন্দোলন ও কর্মবিরতি থেকে সরে এসে শ্রমিকদের কাজে ফেরায় কারখানাগুলোতে আবারও উৎপাদন কার্যক্রম সচল হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বর্ধিত বেতন শ্রমিকরা ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে হাতে পাবেন।
এদিকে নতুন করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে শিল্পাঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়ক, কারখানার প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, “গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আমাদের সদস্যরা মহাসড়ক ও কারখানা এলাকার প্রতিটি পয়েন্টে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন।”
গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানান, শিল্পাঞ্চলে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোববার ১২ প্লাটুন বিজিবি, ৮ প্লাটুন এসআরবি ও ৫ প্লাটুন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরাও বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ শ্রমিকরা জানান, মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পেও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসার আশা তৈরি হয়েছে।