
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে শান্তা বেগম নামে এক নারীকে হত্যার ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলামকে রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই গাজীপুর জেলা পিবিআই একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। হোটেলের নিবন্ধন তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
২৩ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মহানগরের দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহত শান্তা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের নির্দেশনা এবং পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তারের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সময় সাইফুল ইসলাম ও শান্তা বেগমের পরিচয় হয়। প্রায় তিন মাসের সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করেন। তবে উভয়ের আগের সংসার, সন্তান এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, সাইফুলের আগের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে শান্তারও আগের সংসারের দুই সন্তান ছিল। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে দাম্পত্য জীবনে নিয়মিত কলহ চলছিল।
পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন শান্তা বেগম ফোন করে সাইফুলকে গাজীপুরে আসতে বলেন। পরে তারা চান্দনা চৌরাস্তার একটি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষে ওঠেন। সেখানে পূর্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাইফুল শান্তাকে থাপ্পড় দিলে শান্তা পাল্টা আঘাত করেন। এরপর সাইফুল ধারালো ছুরি দিয়ে শান্তার গলা ও বুকে আঘাত করেন। এতে শান্তা খাটের ওপর লুটিয়ে পড়েন। পরে তার ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে সাইফুল হোটেল থেকে পালিয়ে যান।
তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এখনও উদ্ধার করা যায়নি। এছাড়া এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং পৃথক একটি দলকে ছায়া তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও তদন্ত দলের বিরামহীন প্রচেষ্টায় মাত্র এক দিনের মধ্যেই নিহতের পরিচয় শনাক্ত, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলার অন্যান্য আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলামকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, হোটেলের তথ্য এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।