
গাজীপুরের শ্রীপুরে জবাই করা ঘোড়ার মাংস স্থানীয়সহ দূরবর্তী এলাকায় গরুর মাংস হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করত এক ব্যাক্তি। ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক সেই ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ঘোড়ার মাথা, লেজ, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, আটক করার সময় ডালিম মিয়ার কাছে ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও নাড়িভুঁড়িসহ বিভিন্ন অংশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় ঘোড়া জবাই করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এ কাজে জড়িত। জবাই করা ঘোড়ার মাংস স্থানীয়সহ দূরবর্তী এলাকায় গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করতেন।
ডালিম মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা এবং বেড়াইদেরচালা গ্রামের মো. শামসুদ্দিনের ছেলে। তবে তিনি শ্রীপুরে জমি কিনে বসবাস করছিলেন। পরে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ডালিম মিয়ার সঙ্গে থাকা আরও দুজন ব্যক্তি জবাই করা মাংস নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা ঘোড়ার বিভিন্ন অংশ ফেলে দিতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন গোলাম মুরশেদ মুরাদ জানান, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ডালিম মিয়াকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। উদ্ধার করা ঘোড়ার মাথা ও অন্যান্য অংশ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।