
শেষ বাঁশি বাজতেই দুই ভিন্ন আবেগের সাক্ষী হলো আটলান্টার স্টেডিয়াম। একদিকে আনন্দে কেঁদেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা, অন্যদিকে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় চোখের জল লুকাতে পারেননি মিশরের খেলোয়াড়রা। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের বড় নায়ক ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। একসময় মনে হচ্ছিল, কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার। কিন্তু দলের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে আবারও নেতৃত্বের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই তারকা।
ম্যাচে প্রথমে মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়। তবে হাল ছাড়েনি লিওনেল স্কালোনির দল। প্রথমে মেসির তৈরি করা সুযোগ থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমান। এরপর ৮৪তম মিনিটে নিজেই সমতাসূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরান মেসি।
সমতায় ফেরার পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে এনজো ফার্নান্দেজের শক্তিশালী হেডে আসে জয়সূচক গোল। ২-০ থেকে ৩-২—বিশ্বকাপের অন্যতম নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফেলে আর্জেন্টিনা।
শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠজুড়ে দেখা যায় আবেগঘন দৃশ্য। আনন্দাশ্রু ঝরতে থাকে মেসির চোখে। কয়েক মিনিট আগেও যার বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল, সেই তিনিই দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন। সতীর্থরা তাকে ঘিরে উদযাপনে মেতে ওঠেন, আর গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক।
অন্যদিকে অসাধারণ ফুটবল খেলেও শেষ মুহূর্তে জয় হারিয়ে ভেঙে পড়ে মিশর। ম্যাচ শেষে হতাশায় মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দেশটির কয়েকজন ফুটবলার।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি আর্জেন্টিনা, বরং আবারও প্রমাণ করেছে—লিওনেল মেসি মাঠে থাকলে শেষ বাঁশি বাজার আগে তাদের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ শেষ হয়ে যায় না।