
প্রায় ১৩ মাস কারাভোগ শেষে নারায়ণগঞ্জে নিজ বাসভবনে ফিরেছেন সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তবে বাড়ি ফেরার পর থেকেই তাকে ঘিরে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনবারের সাবেক মেয়র আইভীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তিনি বা তার সমর্থকরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছেন কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ১২টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর বুধবার রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান আইভী। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে অবস্থিত তার পৈতৃক বাসভবন ‘চুনকা কুটিরে’ পৌঁছান।
তার মুক্তিকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতেই নারায়ণগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে তার বাড়ির সামনে ও আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান নেন।
স্থানীয়দের দাবি, ওই রাতেই পুলিশের তত্ত্বাবধানে আইভীর বাড়ির সামনের সড়ক ও আশপাশে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া এলাকায় সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের টহল দিতেও দেখা গেছে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “তিনি একজন সাবেক মেয়র হওয়ায় তার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি যেন নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না হন কিংবা তার পক্ষে কেউ উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা না করে, সেটিও আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ কারণেই ওই এলাকায় সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
তারেক আল মেহেদী বলেন, “জামিনে থাকা অবস্থায় আইভী তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। এমন কিছু হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর আমাদের নজরদারি থাকবে।”
আইভীর বাসভবনের সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পুলিশ বলছে, এটি শুধু ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে নেওয়া উদ্যোগ নয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন অলিগলি পর্যন্ত নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো শহরে প্রায় দুই হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে মুক্তির পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ঘনিষ্ঠজনেরা আইভীর সঙ্গে দেখা করতে তার বাসভবনে ভিড় করতে শুরু করেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে দর্শনার্থীদের সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরও বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তার খোঁজখবর নিতে আসছেন।