
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ সংকটের মধ্যেই আবারও বাড়ানো হয়েছে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম। এবার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সোমবার (২ নভেম্বর) নতুন এ দাম ঘোষণা করা হয়, যা রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
এর আগে গত মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছিল বাজারে। গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে সরবরাহ সংকটের কারণে ভোক্তাদের ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দিয়ে প্রতিটি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে অনেক এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়।
বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা। এ হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা করা হয়েছে।
এলপিজি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যমতে, দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি ব্যবহৃত হয় বাসাবাড়ির রান্নার কাজে। বাকি অংশ শিল্প ও পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের এলপিজি খাতের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। এসব প্রতিষ্ঠান আমদানির মাধ্যমে বাজারে এলপিজি সরবরাহ করে থাকে। গত দুই মাসে এলপিজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। তবে আমদানি স্বাভাবিক থাকার পরও বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ভোক্তাদের বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।