
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার ২০০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে বিশেষ পিকেটিং ও চেকপোস্ট বসানো হবে। পাশাপাশি রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে বাড়ানো হবে তল্লাশি কার্যক্রম।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সক্রিয় থাকবে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। এছাড়া সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও আইএডি সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি চালাবেন।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও জানান, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোলরুমে অতিরিক্ত ফোর্স রিজার্ভ থাকবে। পুরো নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকিতে পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে চলতি মাসের শুরু থেকে ২০ জুন পর্যন্ত রাজধানীতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের তথ্যও তুলে ধরে ডিএমপি। সংস্থাটি জানায়, এ সময়ে বিভিন্ন মামলায় বিপুলসংখ্যক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক মামলায় ৮২ জন, ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে ২৮ জন, চুরির ঘটনায় ১২১ জন, দস্যুতা মামলায় ১১৩ জন এবং ডাকাতি মামলায় ১২০ জনকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া জুন মাসে ডিএমপির থানা, ডিবি ও সিটিটিসির পৃথক অভিযানে মোট ৫৫ জন চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীবাসীকে আশ্বস্ত করে ডিএমপি বলেছে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।