গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে হাসনা আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরীকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী রফিকুল ইসলাম (২৮)-এর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে মহানগরীর পূবাইল থানাধীন হায়দরাবাদ শুকুন্দিরবাগ এলাকার হান্নান মার্কেটসংলগ্ন মাওরারটেক রেললাইনের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
আটক রফিকুল ইসলাম নওগাঁ জেলার মান্দা থানার বড়ট্রকাঠের ডাংগা গ্রামের মৃত সিরাজ মণ্ডলের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম ও হাসনা আক্তার সম্পর্কে নানা-নাতনী। চার বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন রফিকুল। গত চার বছরে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসাব নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
এরই জেরে রোববার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন খাইলকুর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী হাসনাকে পূবাইলের হায়দরাবাদ মাওরারটেক রেললাইন এলাকায় ডেকে নিয়ে যান রফিকুল। পরে সেখানে নির্জন স্থানে ধারালো ছুরি দিয়ে হাসনার গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসনার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা রফিকুলকে আটক করেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসনাকে উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে পূবাইল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসনাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থল রেললাইনের কাছাকাছি হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পূবাইল থানা-পুলিশ আটক ব্যক্তি ও মরদেহ সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানার (জিআরপি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।