
গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগরের একটি ভাড়া করা ভবনে প্রায় দুই বছর ধরে অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে আলিফ জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বাইরে আধুনিক হাসপাতালের সাইনবোর্ড, ভেতরে অপারেশন থিয়েটার, ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি সবকিছুই যেন স্বাভাবিক একটি প্রতিষ্ঠানের মতো। অথচ হাসপাতালটির নামে নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন, নেই ফায়ার সার্ভিসের সেফটি সার্টিফিকেট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল টঙ্গীর এরশাদ নগরে ভাড়াকৃত ভবনের একটি ফ্লোরে চলছে পূর্ণমাত্রার হাসপাতাল কার্যক্রম। রোগী ভর্তি, অপারেশন প্রস্তুতি, নার্স-স্টাফদের আনাগোনা সবই নিয়মিত। তবে হাসপাতালের বৈধতা সম্পর্কিত কোনো নথি, অনুমোদনের নম্বর বা লাইসেন্স ভবনের কোথাও প্রদর্শন করা নেই। রোগী আনার জন্য দালালচক্র সক্রিয়।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কমিশনভিত্তিক দালালচক্র বিভিন্ন ক্লিনিক ও আশপাশের এলাকা থেকে রোগী ধরে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এতে অনেক রোগী অজ্ঞাতসারে অনুমোদনবিহীন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,এখানে দালালরা হাঁটছে। রোগীদের অন্য জায়গা থেকে এনে বলে এখানে ভালো হবে।অথচ হাসপাতালের কোনো লাইসেন্সই নেই।হাসপাতালের চেয়ারম্যান শিউলি আক্তার মিলার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের ট্রেড লাইসেন্স আছে। অন্যান্য কাগজপত্রের জন্য অনলাইনে আবেদন করেছি। লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তবে অনুমোদন ছাড়া অপারেশনসহ উচ্চঝুঁকির চিকিৎসা কীভাবে চলছে এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর তিনি দিতে পারেননি। বিষয়টি জানানো হলে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন বলেন,আলিফ জেনারেল হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এখন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনবিহীন স্থাপনায় অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা মানবজীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। যন্ত্রপাতির মান, পরিবেশ নিরাপত্তা, চিকিৎসকদের যোগ্যতা সবই প্রশ্নবিদ্ধ থাকে।স্থানীয়দের ধারণা, প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হলে হাসপাতালটির আরও নানা অনিয়ম প্রকাশ পেতে পারে।