প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা ও অভিযান সত্ত্বেও ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাই জ্বালানি তেলের সিন্ডিকেট। গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে দোকানের সাটার বন্ধ করে গোপনে চলছে তেল নামানোর কাজ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রশাসনের অভিযানে নাওজোড় ও কড্ডা এলাকায় তিনজনকে আটক করা হলেও থেমে থাকেনি সিন্ডিকেটের কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, বাসন থানার অসাধু কর্মকর্তার আশকারায় সিন্ডিকেটের মূল মুরসালিন এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে। তবে বাকি সদস্যদের দোকান বন্ধ থাকলেও মুরসালিনের চোরাই জ্বালানি তেলের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের সহযোগী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন একাধিক চোরা তেলের দোকানদার। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর ) রাতে ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের মহাসড়কের বাইপাসের যোগিতলা আন্ডারপাস এলাকা ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ থাকা দোকানগুলোর কর্মচারীরা গোপনে তেল ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘অবৈধ অর্থের জোরে এরা অদৃশ্য প্রভাব খাটিয়ে যে কোনো কঠিন বিষয়কে সহজ করে ফেলে। প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তা ছাড়া এমন কর্মকাণ্ড সম্ভব নয়। ‘স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পুরো চোরাই তেল ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রণ করে, যার নেতৃত্বে রয়েছে মুরসালিন। প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে তারা দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের দুই পাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এসব অবৈধ তেলের দোকান। রাতের বেলায় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন থেকে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি ট্যাংক থেকে তেল নামানো হয়।এতে একদিকে সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাতভর তেল ও বালু নামানোর কারণে পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে দোকানদাররা হুমকি ও গালাগাল করেন। এমনকি সংবাদকর্মীরাও তথ্য সংগ্রহে গেলে অসদাচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হন। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে এ অবৈধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।