• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজধানীতে অপরাধ দমনে কঠোর অভিযানের প্রস্তুতি, আলোচনায় ‘ক্লিন হার্ট’ শ্রীপুরে অপহৃত তরুণ উদ্ধার, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৩ সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুর মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহ: দুই ফিলিং স্টেশনকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে কোনাবাড়ীতে এক যুবক গ্রেপ্তার টঙ্গী পশ্চিমে বিশেষ অভিযানে অস্ত্র মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার বাসনে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ গাজীপুর জেলার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ সুপার এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে ১০ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার পূবাইলে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু

‎কালিয়াকৈর পৌর মেয়র মজিবুরের অনিয়ম তদন্তে দুদকের অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার / ১৪৮ Time View
Update : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার

‎

ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে কালিয়াকৈর পৌরসভা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভায় অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
‎অভিযোগ রয়েছে, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ওই কাজগুলোর কার্যাদেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন পৌর মেয়র মজিবুর রহমান। দুদকের গাজীপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কর্মকর্তারা পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্পের কাগজপত্র যাচাই করেন এবং দরপত্র-সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র সংগ্রহ করেন। পরে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে মর্মে দুদকের কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।
‎সহকারী পরিচালক এনামুল হক বলেন,
‎“জিজ্ঞাসাবাদে পৌর কর্তৃপক্ষের কেউই টেন্ডার যাচাই-বাছাইয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তাদের দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছে – প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ভুয়া কাগজে কোটি টাকার কার্যাদেশে কালিয়াকৈর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে IUGP প্রকল্পের ৪র্থ প্যাকেজের অধীনে হাইটেক পার্ক, আনসার একাডেমি ও পাশের বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। মোট ব্যয় ধরা হয় ১৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু যাচাই-বাছাই না করেই ব্রাউন ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কাজ না পেয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিকাদার দুদকের ঢাকা কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করলে সংস্থাটি অনুসন্ধানে নামে। দুদকের গাজীপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ পরিচালক নাজমুল হোসাইন বলেন,
‎“কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রকল্পে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে টেন্ডার নেওয়ার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্তে টিম মাঠে গিয়ে রেকর্ড সংগ্রহ করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
‎সূত্র জানায়, মজিবুর রহমান কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি আওয়ামী লীগের তিন আমলেই ছিলেন পৌর মেয়রের দায়িত্বে। হাসিনার ফ্যাসিবাদী আমলে যেখানে বিএনপি নেতারা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছিলেন, সে সময় মজিবুর ছিলেন রাজার হালতে। সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে ছিল তার দহরম-মহরম সম্পর্ক। মোজাম্মেল হকের ছায়ায় কালিয়াকৈরের সবই ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। টেন্ডার বাণিজ্য, ঝুট বাণিজ্য, ভুয়া প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ লোপাট, জনবল নিয়োগে অনিয়ম, বনের জমি জবরদখল করে শিল্পকারখানায় বিক্রি করে দুই হাতে কামিয়েছেন টাকা। গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। কালিয়াকৈরে গড়েছেন ৮টি বহুতল ভবন ও আলিশান বাড়ি, এছাড়া রাজধানী ও বিদেশেও রয়েছে ফ্ল্যাট-বাড়ি। তিনি বেশির ভাগ সম্পদ করেছেন স্ত্রী আজমেরি বেগম, নিকটাত্মীয় ও অনুসারীদের নামে বলে অভিযোগ উঠেছে।
‎‎এর আগে গত ৫ জানুয়ারি, স্ত্রী-সন্তান ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মজিবুর রহমানকে তলব করেছিল দুদক। তবে অজ্ঞাত কারণে পরবর্তীতে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
‎‎কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাওসার আহমেদ বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের একটি টিম পৌরসভার কয়েকটি প্রকল্পের টেন্ডার সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করেছে। আমরা তাদের সব প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছি।”এসব বিষয়ে মেয়রের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাবেক মেয়র মজিবুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কালিয়াকৈর পৌরসভার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগে দুদক মাঠে নেমেছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এখন দেখা যাক, এ অনুসন্ধান কতদূর গড়ায় এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যিই কি বিচার হয়।


More News Of This Category
bdit.com.bd